যুক্তরাজ্যের ছোট্ট গ্রাম টেম্পসফোর্ডে বড় ধরনের নগরায়ণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটির নতুন লেবার সরকার। ইংল্যান্ডের বেডফোর্ডশায়ারে অবস্থিত গ্রামটিতে বর্তমানে মাত্র ৬০০ মানুষ বাস করছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখানেই তৈরি হবে ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষের বসবাসযোগ্য নতুন শহর। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে থাকবে নতুন একটি রেলস্টেশন, যা অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজকে যুক্ত করবে লন্ডনের পূর্বাঞ্চল রেলপথের সঙ্গে। প্রকল্পটি ‘গ্রোথ আর্ক’ নামে বড় উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য ব্রিটেনের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে আবাসন সংকট কমানো ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো। তবে হঠাৎ করে এত বড় পরিবর্তনের খবরে স্থানীয় বাসিন্দারা বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
সম্প্রতি ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী রÅাচেল রিভস এ পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। এতে বলা হয়, নতুন একটি রেলস্টেশন তৈরির মাধ্যমে টেম্পসফোর্ডে ইস্ট ওয়েস্ট রেল ও লন্ডনের ইস্ট কোস্ট মেইনলাইনের সংযোগ স্থাপন করা হবে। যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি শহরের সঙ্গে এমন সংযোগ থাকার কারণে স্থানটিকে আবাসন প্রকল্পের জন্য আদর্শ বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারক ও বিনিয়োগকারীরা।
টেম্পসফোর্ডের প্যারিশ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও গ্রামের একমাত্র পাবের মালিক ডেভিড সাটন বলেন, ‘আগে শুনেছি যে এখানে ১০ থেকে ২০ হাজার ঘর তৈরি করা হবে। কিন্তু হঠাৎ করে ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষের বসবাসের কথা শুনে আমরা হতবাক হয়েছি। কেউ কেউ এ পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না, আবার কেউ গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার কথাও ভাবছেন।’
টেম্পসফোর্ড গ্রামের রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস। রোমান শাসনবিরোধী বিদ্রোহ থেকে শুরু করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসিবিরোধী গোপন মিশনে এখান থেকে যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু শত বছরের ইতিহাস আর ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও এখানে গড়ে তোলা হচ্ছে নতুন ও বড় শহর।
পরিকল্পনার পক্ষে থাকা বিশ্লেষকদের মতে, জায়গায় জায়গায় ছোট ছোট আবাসন প্রকল্প গড়ার চেয়ে এক জায়গায় পরিকল্পিতভাবে বড় একটি শহর গড়ে তোলাই ভালো। এতে যাতায়াত, অবকাঠামো ও সেবা খাতের উন্নয়ন একসঙ্গে করা সহজ হয়। এভাবেই আবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
‘ইউকে ডে ওয়ান’ প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক কেইন এমারসন বলেন, ‘ভালো যাতায়াত সুবিধা যেখানে আছে, সেখানেই নতুন ঘর গড়লে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও হবে বেশি। পরিকল্পনার অনুমোদন পেলে জমির দাম প্রতি হেক্টরে ৩৫ হাজার থেকে বেড়ে ৩০ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে, যা সরকারের জন্য বড় রাজস্বের সুযোগ তৈরি করবে।
ট্রান্সপোর্ট ফর নিউ হোমস নামের একটি সংস্থার পরিচালক স্টিভ চেম্বারস বলেন, ‘এ ধরনের বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এমন শহর তৈরি করা যাবে যেখানে মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যাবে এবং পরিবেশের ওপর চাপও কম থাকবে।’
তবে এখনো স্থানীয়দের অনেকেই উদ্বিগ্ন। তাদের আশঙ্কা, এত বড় পরিবর্তনে গ্রামের পরিচিত পরিবেশ ও জীবনযাপন পুরোপুরি পাল্টে যাবে। ডেভিড সাটন বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা অদ্ভুত জায়গা। কিন্তু আমি এ জায়গাটাকে ভালোবাসি।’